শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৪
Led05বন্দরশিক্ষা

‘সায়মা’য় বদলেছে নবীগঞ্জ গালর্স, শিক্ষার্থীরা পেয়েছে আধুনিক ভবন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: একদিকে সড়ক প্রস্থ করণ কাজে চলে যাচ্ছে বিদ্যালয়ের জমি ও ভবন। অন্যদিকে হাজারও শিক্ষার্থীর অনিশ্চিত শিক্ষা জীবন।

এমন পরিস্থিতিতে ২০১৪ সালে বন্দরের নবীগঞ্জ গালস্ স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সায়মা খান। তার অক্লান্ত পরিশ্রম আর প্রচেষ্টায় আজ সেই বিদ্যালয়ের নিজেস্ব জমি আর আধুনিক বহুতল ভবন। পড়ালেখার নিশ্চয়তা পাচ্ছে সাড়ে ১১‘শ ছাত্রী। উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রূপান্তিত হয়েছে কলেজেও।

বন্দরের নারী শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৫১ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল নবীগঞ্জ এলাকায়। সড়ক প্রসস্ত করণ কাজে বিদ্যালয়টির জমি নিয়ে নেয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। অনিশ্চয়তায় পরে যায় হাজারও শিক্ষার্থীর পড়া লেখা। এরই মধ্যে প্রধান শিক্ষিকা হয়ে আসেন সায়মা খান।

সায়মা খাতুন জানান, যখন দায়িত্ব নিলাম। তখন বিদ্যালয়ের জমি ও ভবন সড়ক প্রসস্তকরণ কাজে চলে যাবে শুনে অনেক চিন্তিত ছিলাম। সব সময় চেষ্টা করেছি কিভাবে বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখা যায়। স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় যোগাযোগ করেছিলাম নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমানের সাথে। বিষয়টি শুনে এমপি জমি ক্রয়ের উদ্যোগ নিলেন। এখন তাঁর দান করা ৪৭ শতাংশ জমিতে ২টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ৭ তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট ৩ তলা একটি ভবন শিক্ষার্থীদের জন্য সেলিম ওসমান নিজেই তৈরি করে দিয়েছেন। ২০২২ সাল থেকে সেখানেই পাঠদান কার্যক্রম চলছে। কিন্তু বিদ্যালয়টির সাড়ে ১১শ শিক্ষার্থী সংকুলন হতো না। এতে কম হতো শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার।

প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ আগস্ট বিদ্যালয়টিতে ৬ তলা বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে নির্মিত এই ভবনের তত্বাবধায়নে ছিল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়।

সায়মা খাতুন এর প্রশংসা করে সেলিম ওসমান বলেন, কোন নারী আমার কাছে এত ধমকের সূরে কোন কিছু চায়নি। যেটা আলো (সায়মা খাতুন) চেয়েছে। আমিও শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শিক্ষার মানউন্নয়নে বিদ্যালয়টির পাশে ছিলাম। ভবিষ্যতেও থাকবে।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আতাউর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে নতুন ভবন নির্মাণ কাজের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। প্রধান বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী নাসরিন ওসমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

RSS
Follow by Email