শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪
Led01বিশেষ প্রতিবেদন

৭৯টি বিসিকের ৩৫ শতাংশ কর্মসংস্থান ফতুল্লায়, তারপরেও অবহেলিত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: দেশের সফল শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিক।

এখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার মানুষের। নানা সীমাবদ্ধতার পরেও পণ্য উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রমে অবধান রেখে চলেছে। গুড়াচ্ছে দেশের অর্থনীতির চাকা।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প করপোরেশনের ৭৯টি শিল্প নগরীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এখানে। অথচ, অবকাঠামোগত সংকট, উৎপাদনরত শিল্প প্লটের ভূমিস্বল্পতা, নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় ঝুঁকির কারণে শিল্পনগরীটি পিছিয়ে পড়ছে।

মূলত ১৯৬০ সালে বিসিকের কার্যক্রম শুরু হয় দেশব্যাপী। প্রথম কার্যক্রম শুরু হওয়া বিসিকের মধ্যে রয়েছে বরিশাল শিল্পনগরী। এরপর ১৯৬১ সালে রাজশাহী, কুমিল্লা, খুলনা, পিরোজপুর (স্বরূপকাঠি) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬২ সালে চালু হয় যশোর, দিনাজপুর, পাবনা, ফেনী বিসিক শিল্পনগরী। ১৯৬৩ সালে কুষ্টিয়া, ১৯৬৪ সালে রাজবাড়ী, বগুড়া ও টঙ্গী, ১৯৬৭ সালে রংপুর এবং ১৯৬৮ সালে ময়মনসিংহ বিসিকের কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রথম দিককার টঙ্গী ছাড়া বাকি বিসিক শিল্পনগরীগুলো প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে।

১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় হোসিয়ারি বিসিক।

৫৮ দশমিক ৫২ একর জমির এ শিল্পনগরীতে শিল্প প্লটের সংখ্যা ৭৪১। বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৭৪০টি। বরাদ্দকৃত প্লটে ৪২৯টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে ৪২০টি উৎপাদনরত, তিনটি বাস্তবায়নাধীন ও ছয়টি শিল্প ইউনিট রুগ্‌ণ অবস্থায় রয়েছে। এ শিল্পনগরীতে সর্বোচ্চ ২ লাখ ২৯ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। ১ লাখ ১৩ হাজার পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি কাজ করেন ১ লাখ ১৬ হাজার নারী শ্রমিক।

বিসিকের এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ৭৯টি বিসিক শিল্পনগরীতে মোট কর্মসংস্থান হয়েছে ৬ লাখ ২৯ হাজার ৭০৬ জনের। অর্থাৎ ৮০টি বিসিক শিল্পনগরীর মধ্যে কর্মসংস্থানের ৩৫ শতাংশ সৃষ্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রামের কালুরঘাট শিল্পনগরীতে কর্মসংস্থান ৯৫ হাজার এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৫৪ হাজার।

ফতুল্লা বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি ও বিকেএমইএ‘র নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, দেশের সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আসছে এখান থেকে। কিন্তু অবকাঠামোগত সংকট, উৎপাদনরত শিল্প প্লটের ভূমিস্বল্পতা, নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় ঝুঁকির কারণে শিল্পনগরীটি পিছিয়ে পড়ছে। তাঁরা সার্ভিস ট্যাক্স ঠিকিই নিচ্ছে, কিন্তু সার্ভিস দিচ্ছে না। এই বিষয় গুলো নিয়ে বিসিক কর্তৃপক্ষের সাথে বহুবার কথা বলেছি। চিঠি দিয়েছি, শিল্প সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছি। তারপরেও কোন লাভ হচ্ছে না।

সমস্যা গুলোর কথা স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিক হোসিয়ারী শিল্পনগরী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ফতুল্লার এই বিসিক হোসিয়ারী শিল্পনগরীর জন্য গড়ে তোলা হয়। কিন্তু তাঁরা না আসায় এখন বড় বড় শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। অবকাঠামোগত সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত ৯৮ কোটি টাকার বাজেট চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ফলে সমস্যা গুলোর সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বছরও ১২ কোটি টাকা চেয়ে বাজেট চেয়েছি, আগামী আগস্ট মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে মিটিং হলে সর্বশেষ অবস্থা জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

RSS
Follow by Email