শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৪
Led02বিশেষ প্রতিবেদন

প্রায় ২০০ কোটির দৃষ্টিনন্দন খাল এখন ময়লা ফেলার জায়গা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: অর্ধযুগও আগে দখল দূষণে নিজ্জিত ছিল নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল খাল। ২০১৮ সালে খালটি উদ্ধার করে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করা হয়। উদ্বোধনের আগেই খালটিতে আবারও আবর্জনার স্তূপ জমে গেছে। কেউ কেউ ব্যবহার করছে ময়লা ফেলার স্থান হিসেবে।

স্থানীয়রা জানান, ‘খালটি এলাকাবাসীর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু ময়লা ফেলার জায়গা তৈরি করেনি। তাই মানুষ ময়লা ফেরার জায়গা না পেয়ে এখানে এনে ফেলছে।’

বাবুরাইল খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ কিলোমিটার। শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা এই খাল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৫ ওয়ার্ড থেকে শুরু হয়ে ১৬ নং ওয়ার্ড হয়ে ফতুল্লা থানার কাশিপুর ইউনিয়নে শেষ হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আশির দশকে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী নৌকা পরিবহন গুলো এখানে। নব্বই দশকের পর অবৈধ দখল, দূষণ ও নদীর নাব্য হ্রাসের ফলে বাবুরাইল খালটি বদ্ধ জলাশয়ের আকার ধারণ করে। প্রতিনিয়ত মানুষের বর্জ্য ফেলার কারণে খালটি ডাম্পিং স্থানসহ মশা-মাছির প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই খাল দখলমুক্ত ও বর্জ্য অপসারণে ৬ বছর আগে ২০১৮ সালে উদ্যোগ গ্রহণ করে সিটি করপোরেশন। ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাতে নেওয়া এই প্রকল্পটি উদ্বোধনের আগেই আবার আগের জায়গায় চলে যাচ্ছে।

কাশীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় বাবুরাইল অংশ ঘুরে দেখেন। খালের এসব অংশে দেখা গেছে ময়লা-আবর্জনা। পানির সাথে ভেসে বেড়াচ্ছে সে গুলো। তবে খালের মন্ডলপাড়া অংশ কিছুটা সচ্ছ রয়েছে।

খালটিতে নৌকা চলাচল, পুনরুদ্ধারসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শোভাবর্ধন ও আলোকিতকরণে ২০১৪-১৫ সালে প্রকল্প নেয় সিটি করপোরেশন। ২০১৮ সালে দরপত্র আহবান করা হয়। এরপর এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে।

কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য ও বাংলাবাজার এলাকায় বাসিন্দা মো. আইয়ুব আলী লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, খাল পুনঃউদ্ধার হয়েছে ঠিকই। কিন্তু ময়লা ফেলার সুনির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় মানুষ সেই খালেই ময়লা ফেলছে। খাল পুনঃউদ্ধারের সাথে সাথে ময়লা ফেলার সুনির্দিষ্ট জায়গা ও মানুষকে সচেতন করার প্রদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

খালটি পরিচ্ছন্ন রাখার শর্তে মাছ ছাড়ার অনুমোতি পেয়েছেন সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলরের মনোনিত লোক।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. রিয়াদ হাসান লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘যে মাছ ছাড়ে সেও পরিস্কার রাখছে না। ফলে খালটির সৌন্দর্য হারাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

RSS
Follow by Email