শুক্রবার, জুন ২১, ২০২৪
Led02রাজনীতিসদর

শান্তি সমাবেশে বিএনপিকে মহানগর আ.লীগের কড়া হুঁশিয়ারি

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বিএনপির হরতালের বিরুদ্ধে এবং ঢাকায় পুলিশ কনস্টেবলকে নির্মম ভাবে হত্যার প্রতিবাদে শান্তি সমাবেশ করেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। রোববার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে চাষাঢ়া প্রেসক্লাবের নিচে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশ থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের কড়া হুঁশিয়ারি দেয় উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা।

এসময় মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু চন্দনশীলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সহ-সভাপতি এড. হান্নান আহমেদ দুলাল, রবিউল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, জিএম আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালা, দপ্তর সম্পাদক বিদ্যুৎ কুমার সাহা, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির মৃধা, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভুইয়া সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, আশ্ররাফুল হক শরিফ, আওয়ামী লীগ নেতা এস এম পারভেজ, মহানগর তাঁতী লীগের আহ্বায়ক চৌধুরী এইচ এম শাহেদ, আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়া হোসেন আনু প্রমুখ।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে চন্দনশীল বলেন, সমাবেশের নামে বিএনপি সারা দেশে তান্ডব করেছে। একটি মানুষকে তারা কিভাবে পিটিয়ে হত্যা করলো, এটা কিভাবে সম্ভব। ওই পুলিশ সদস্য একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, তার নাম পারভেজ। তাকে কিভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে সেটা সারা দেশবাসী দেখেছে। এটা একটি শহীদি মৃত্যু। প্রধানমন্ত্রী বলেছে ধৈর্যসহকারে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে। তার হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকার পরেও সে কিন্তু সেটার ব্যবহার করেননি। এই হচ্ছে তাদের সমাবেশ।

তিনি আরও বলেন, ওই রাজাকারের বাচ্চা মির্জা ফখরুল বলেছিলো, ১৮ অক্টোবর শেখ হাসিনার বিদায় না ঘটলে হতে চুরি পরে রাজনীতি থেকে বিদায় নিবো। আজ ওই ফখরুলকে চুরি উপহার পাঠানো হচ্ছে। তারা গতকাল নাকি শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করাবে, তারা কি করলো আপনারা সব দেখেছেন। আমরা ইতিমধ্যে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে ঢাকার রাজপথ প্রকম্পিত করেছি। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী করেই আমরা ঘরে ফিরবো। আর যদি কেউ নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তাহলে তাদেরকে দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়ার জন্য যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রস্তুত থাকবে।

এড. খোকন সাহা বলেন, বিএনপি জানে নির্বাচনে জিততে পারবে না। তাই ওরা একটি তৃতীয় শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে চায়। শামীম ওসমান নেত্রীকে বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ হল দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ। এখানে কোন অপশক্তি থাকতে পারবে না। গতকাল শামীম ওরমানের নেতৃত্বে আমরা ঢাকার রাজপথ প্রকম্পিত করেছি। নেতা বলেছেন কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি সফল করো। আমরা করলাম।

তিনি আরও বলেন, তত্বাবধায়ক সরকারের কথা অনেকে বলেন। ব্যারিষ্টার মওদুদ হাইকোর্টে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আপিল করেছিল। কোর্ট তা বাতিল করে দেয়। পৃথিবীর কোথাও তত্বাবধায়ক ব্যাবস্থা নেই। সারা পৃথিবীতে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়। আমেরিকায় ট্রাম্পের অধীনে নির্বাচন হয়েছে সেখানে বাইডেন জিতেছে। কিছু হলেই ওরা আমেরিকার দূতাবাসে যায় প্রেসক্রিপশন আনতে। ভোট এদেশের জনগণ দেবে। আমেরিকা দেবে না। ওদের দেশে প্রতি মাসে দুয়েকশ লোক মারা যায়। সেখাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় না, হয় আমার দেশে।

শাহ্ নিজাম বলেন, তাদের দাবি সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। আর লন্ডন থেকে এই মুলা ঝুলিয়েছেন তারেক জিয়া। গতকাল ২৮ অক্টোবর নাকি তারা ক্ষমতায় আসবে। ওদের মুলা ঝুলানো শেষ। এখন তারেক জিয়ার বা ফখরুলের কথায় ঢাকায় কোন বিএনপির নেতাকর্মীরা আসবে না। বিএনপি যখন দেড় কোটি ভুয়া ভোটার তৈরি করেছিলো, তখন বাংলাদেশের সব দল মিলে সেই নির্বাচন বয়কট করেছিলো। সেদিন ম্যাডাম খালেদা জিয়া বলেছিলো, তত্বাবধায়ক সরকার আবার কি? পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ হতে পারে না। তাই বাংলার ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য তো আমরা পাগল বা শিশুর কাছে ছেড়ে দিতে পারি না।

তিনি আরও বলেন, আমি সকালে দেখলাম নারায়ণগঞ্জে কিছু টোকাই বিএনপি অশান্তি সৃষ্টি করছে। আমি ঢাকা তেকে আসার সময় ভেবেছিলাম, কেউ যদি আমার গাড়ি আটকায় তাহলে তাদের সাথে আমি একাই খেলবো। কারণ শামীম ওসমানের নেতৃত্বে যারা রাজনীতি করে তারা একেকটি গেরিলা, একেকটা খেলোয়ার। আমি নারায়ণগঞ্জে প্রদক্ষিন করেছি, বিএনপির ওই টোকাইদের দেখার খুব ইচ্ছে ছিলো, কিন্তু তাদের দেখতে পারি নাই। গতকাল আমরা ৫০ হাজার নেতাকর্মী শামীম ওসমানের নেতৃত্বে ঢাকার শান্তি সমাবেশে যোগদান করেছি। সেখানে শামীম ওসমানকে বার বার স্টেজে ডাকা হলেও তিনি তার কর্মীদের ছেড়ে যাননি। এজন্যই তিনি শামীম ওসমান।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা ঘোষণা দেন নারায়ণগঞ্জের কোন কোন জায়গায় বিএনপি আছে, এক ঘন্টা সময় দিবেন আমাদের যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে; দেখবেন নারায়ণগঞ্জে কোন বিএনপি থাকতে পারবে না। যারা জ্বালাও পোড়াও করে তাদেরকে আমরা দল হিসেব মনে করি না। তাদের ধরি জঙ্গিবাদের অংশ হিসেবে।

সমাবেশের শেষে ঢাকায় নিহত পুলিশ কনস্টেবলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

RSS
Follow by Email