শনিবার, মে ২৫, ২০২৪
Led05জেলাজুড়েসিদ্ধিরগঞ্জসোনারগাঁ

সোনারগাঁয়ে অপহরণের অভিযোগে দুই যুবতি আটক, স্বর্ণ ব্যবসায়ী উদ্ধার

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সোনারগাঁয়ে অপহরণের অভিযোগে দুই যুবতিকে আটক করেছে র‌্যাব-১১। তাদের দাবি আটককৃতরা অপহরণ চক্রের সদস্য। শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) সোনারাগাঁও কাঁচপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয় বলে জানায় র‌্যাব।

আটককৃতরা হলো, সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকার মোসা. ছিফা আক্তার (১৯) ও বরিশাল বিমানবন্দর বারইখালী গ্রামের মোসাঃ রাহিমা জান্নাতুল ওরফে খালেদা।

র‌্যাব-১১ মিডিয়া অফিসার (এএসপি) সনদ বড়ুয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আটককৃতরা একটি অপহরণ চক্রের/মলম পার্টির সক্রিয় সদস্য। বিগত ৪/৫ মাস পূর্বে পূর্ব মাধবপুর গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে মীর হোসেন (৪২) দীর্ঘদিন সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন। তিনি দেশে ফিরে এসে তার দীর্ঘদিনের সেইভিংস দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় আল আরব স্বর্ণ শিল্পালয় নামে একটি জুয়েলারি ব্যবসা শুরু করেন। আটককৃত ছিফা আক্তার (১৯) ঘটনার আনুমানিক ১৪/১৫ দিন পূর্বে মীর হোসেনের স্বর্ণের দোকানে এসে একটি রুপার ব্রেসলেট ক্রয় করে। পরবর্তীতে গত ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মীর হোসেনের স্বর্ণের দোকানে এসে পূর্বের ব্রেসলেট ক্রয়ের বরাত দিয়ে বলে যে, তার একজন আত্মীয়ের স্বর্ণের গহনা বানানোর অর্ডার নেওয়ার জন্য তার আত্মীয়ের বাসায় মীর হোসেনকে যেতে। তখন মীর হোসেন যেতে অস্বীকার করলে অভিযুক্ত ছিফা আক্তার চলে যায়। পরে মীর হোসেন দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য তার দোকান থেকে দেব হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ পুলে আসলে ছিফা আক্তারসহ অপহরণ চক্রটির ২/৩ জন সদস্য একটি সিএনজি অটোরিক্সা নিয়ে মীর হোসেনের সামনে দাঁড় করিয়ে তার মুখের সামনে রুমাল ধরে তাকে অবচেতন করে জোড়পূর্বক সিএনজি আটোরিক্সায় উঠিয়ে অপহরণ করে নিয়ে বর্ণিত ঘটনাস্থলে আটক করে রাখে।

তিনি আরও জানান, তখন চক্রটির অন্যান্য সদস্যরা মীর হোসেনকে ছিফা আক্তারের পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে মোবাইলে ছবি ধারণ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক মুক্তিপণ হিসাবে ৫ লাখ দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করিলে তারা মীর হসেনকে লাঠি দিয়ে মারধর করে, এলোপাতারি কিলঘুষি লাথি মেরে নিলাফুলা জখম করে। আটক থাকাকালীন সে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে তার বড় ভাই মো. মোকলেস মিয়াকে মুক্তিপণের ৫ লাখ টাকা দিয়ে তাকে উদ্ধার করতে বলেন। বর্ণিত চক্রটির কাছে মুক্তিপণের টাকা নিয়ে আসতে দেরি হওয়াতে তাকে পুনরায় মারধর করার ভয়ভীতি দেখায়।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, এই অপহরণ চক্রের সক্রিয় সদস্যদের র‌্যাব-১১ গোয়েন্দা টীম যথাযথ গুরুত্বের সাথে তার অবস্থান সনাক্ত পূর্বক গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আটককৃতদের সনাক্ত ও তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে আটক করতে সক্ষম হয় এবং তাদের হেফাজত হতে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। আসামীদের ও উদ্ধারকৃত ভিকটিম’কে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানার হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

RSS
Follow by Email